WordPress SEO এর সকল কৌশলসমূহ

একটা ব্লগ কিংবা ওয়েব সাইটের সাফল্য হচ্ছে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক কিংবা ভিজিটর থাকা কেননা ভিাজটর না থাকলে সেই সাইটের কোন মূল্য হয় না। তাই নতুনরা সব সময় চিন্তিত থাকে যে, কিভাবে ব্লগে কিংবা ওয়েব সাইটে বেশি পরিমান ট্রাফিক কিংবা ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। আর বেশি পরিমান ভিজিটর নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই SEO ভাল করে করতে হয়। WordPress SEO এর কাজ হচ্ছে কিছু কৌশল বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাইটে বেশি পরিমান ট্রাফিক নিয়ে আসা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বেশিরভাগ WordPress SEO এর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো জটিল যার ফলে নতুনরা প্রায় অসুবিধার মধ্যে পড়ে যায়।

 

আপনি যদি একজন ব্লগার হিসাবে নিজের ওয়েবসাইটের সুনাম এবং ট্রাফিক বৃদ্ধির কাজে খুব বেশি পরিমান সচেতন হন তাহলে আমাদের প্রদত্ত WordPress SEO এর সকল কৌশলসমূহ সম্পর্কে জেনে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

 

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাজেশন করা হয়। কিভাবে SEO করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত গাইডলাইন এখানে প্রদান করা হবে।

 

ওয়েবসাইট তৈরী করার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত প্লাটফর্ম হচ্ছে  WordPress. এ জন্য আপনি শুনে থাকবেন WordPress is SEO friendly। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়ার্ডপ্রেস SEO উপযোগি একটি প্লাটফর্ম হলেও আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে আরো বেশি পরিমান ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে চান তাহলে নিয়মিত কিছু কাজ সম্পাদনে মনোযোগী হতে হবে।

 

ভুমিকাঃ

একজন নতুন হিসাবে আপনার যদি টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকে তাহলে WordPress SEO এর সকল প্রক্রিয়াগুলো আপনার কাছে অনেক জটিল মনে হতে পারে। চিন্তা করবেন না, আমরা এই আর্টিকেলে বাংলা ভাষায় সহজভাবে বিস্তারিত আপনার কাছে তুলে ধরবো যাতে আপনি সহজেভ বুঝতে পারেন এবং নিজের সাইটে এগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। প্রথমেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কি? সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

 

SEO কি?

 

SEO এর অর্থ হচ্ছে Search Engine Optimization। এটি মূলত একটি কৌশল বা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্লগ কিংবা ওয়েব সাইটে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আনতে সক্ষম হন। SEO নিয়ে ইতিমধ্যে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করা হয়েছে। সেটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি দীর্ঘ এবং চলমান প্রক্রিয়া যা ওয়েব সাইটের জন্য প্রতিনিয়ত পালন করতে হয় সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ রেজাল্ট প্রথমে আনার জন্য। অর্থাৎ আপনার সাইটের এসইও যত ভালভাবে করবেন সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইেটর পজিশন (Rank) তত উপরে থাকবে।

 

মনে রাখবেন SEO এর ক্ষেত্রে কোন প্রকার খারাপ চিন্তা বা ছলচাতুরীর স্থান নেই। খুব সাবলিল একটি ওয়েব সাইট যার কোড সাধারন হতে হবে যাতে সহজেই সার্চ ইঞ্জিন সাইটটিকে খুজে নিতে পারে।

 

যখন কেউ কোন বিষয় খুজে পাওয়ার জন্য সার্চ করেন তখন সার্চ ইঞ্জিন নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে সবচেয়ে আদর্শ এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করা কনটেন্টগুলোকে রেজাল্টের প্রথম দিকে প্রদর্শন করে। সুতরাং SEO এর মাধ্যমে সাইটে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর নিয়ে আসা যায়।

 

SEO কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

সাইটে ভিজিটর এর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য SEO খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রাফিক বৃদ্ধিতে অনেক বড় ধরণের ভূমিকা পালন করে থাকে। গুগল সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নিজস্ব কিছু এডভ্যান্স লেভেল এলগরিদম এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েব পেজগুলোকে সার্চ রেজাল্টের জন্য (Rank) পজিশন প্রদান করে।

 

সার্চ ইঞ্জিনের এলগরিদমে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে – এ জন্য আপনার ওয়েব সাইটের কোন পোস্ট, কন্টেন কিংবা আর্টিকেল ঠিক কোন বিষয়ে আছে সেটি সার্চ ইঞ্জিনের এলগরিদমের সাথে পরিচয় করে দিতে হয়।

 

সার্চ ইঞ্জিনের জন্য যদি আপনার সাইটের অপটিমাইজ সম্পূর্ণ রূপে না করেন তাহলে সার্চ রেজাল্টের জন্য আপনার ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিন সঠিকভাবে পজিশন প্রদান করতে পারবে না।

 

যখন আপনার ওয়েব সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন দেখার জন্য ভিজিটর সার্চ করবেন আপনার সাইট SEO করা না থাকলে সার্চ ইঞ্জিন সেটিকে সার্চ রেজাল্ট হিসাবে প্রদর্শন করতে পারবে না ফলে আপনার সাইটের ট্রাফিক কিংবা ভিজিটরের সংখ্যা অনেক কম হয়ে যাবে।

 

একজন ব্লগার কিংবা ওয়েব সাইটের মালিক হিসাবে আপনার ওয়েব সাইটটিকে অবশ্যই ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং Search Engine Friendly করে তৈরী করতে হবে, যাতে অনেক বেশি পরিমান ট্রাফিক বা ভিজিটর নিজের সাইটে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।

 

WordPress SEO এর বেসিক

 

SEO সম্পর্কে না জানলে পূর্বে আর্টিকেলটি দেখে নিতে পারেন।  আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব সাইটি এমনভাবে তৈরী করে নিতে হবে যাতে সাইটটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ বান্ধব হয়। এজন্য আপনাকে টেকনিক্যাল জ্ঞান অর্জন করা লাগবে না।

 

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম নতুনদের জন্য

 

কিভাবে সাইটকে অপটিমাইজ করবো?

 

সাইটের সেটিং

সাইট ডিজাইন করার সময় আনকমপ্লিট পেজ যাতে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন ইনডেক্স করতে না পারে সেজন্য ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মে কিছু অপশন আছে যার মাধ্যমে সাইটকে সার্চ ইঞ্জিন থেকে দূরে রাখা যায়।

 

সাইট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই অপশনের সাহায্যে সার্চ ইঞ্জিন  ব্লক করে রাখার জন্য আপনার সাইটের ড্যাসবোর্ড কিংবা এডমিন প্যালেন লগইন করুন।

 

Website SEO কি? কেন SEO করবেন? কিভাবে SEO করবেন?

 

সেটিং থেকে রেডিং বাটনে ক্লিক  করুন। Setting >> Reading পেজ ওপেন হলে স্ক্রল করে নিচের দিকে নামুন। দেখবেন “Search Engine Visibility” নামক একটি অপশন রয়েছে।  এটি টিক মার্ক করা থাকলে সার্চ ইঞ্জিনে সাইটটি খুজে পাওয়া যাবে না।

 

Search Engine Visibility

 

সাইট ডিজাইন সম্পন্ন হলে এখান থেকে টিক মার্ক উঠিয়ে দিয়ে সেভ বাটন ক্লিক করে বের হয়ে আসুন। মনে রাখবেন সাইট SEO করার প্রথম ধাপ এটি।

 

উল্লেখ্য যে, অসম্পন্ন সাইট যদি সার্চ ইঞ্জিন একবার ইন্ডেক্স করে ফেলে তাহলে পরবর্তীতে সাইট ডিজাইন সম্পন্ন হলেও সার্চ ইঞ্জিনে অসম্পন্ন ইন্ডেক্সকৃত দেখাবে।

 

তাই সাইট অপটিমাইজ করার জন্য সেটিং থেকে সার্চ ইঞ্জিন ব্লক অপশনটি তুলে দিতে হবে।

 

বিকাশ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার নিয়ম

 

ওয়েবসাইটের ওয়েবসাইটে হাজার হাজার আর্টিকেল থাকে এবং প্রতিটি আর্টিকেলের জন্য আলাদা আলাদা লিংক থাকে। এই লিংকগুলো যদি  SEO friendly হয় তাহলে ব্যবহারকারী লিংকটি দেখেই কন্টেন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পায়।

 

SEO friendly লিংক সার্চ ইঞ্জিন কেও কন্টেন বুঝতে অনেক বেশি সহায়তা করে থাকে। তাই সাইটের লিংকের গঠন সম্পর্কে মনোযোগ দিতে হবে।

 

কিছু SEO friendly লিংক এর উদাহরণঃ

 

www.hudhud-bd.com/wordpress-seo/

www.hudhud-bd.com/wordpress-website/

 

ভাল করে লক্ষ করুন- লিংকগুলো পড়া যায় এবং আর্টিকেল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

 

কিছু non-SEO friendly লিংক এর উদাহরণঃ

 

www.hudhud-bd.com/?p=10456

www.hudhud-bd.com/archives/12432

 

উপরের লিংকগুলো লক্ষ করুন, এতে নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। কন্টেনের সাথে লিংকের কোন সম্পর্ক নেই। এই রকম লিংক দেখে ব্যবহারকারী বুঝতে পারবে না যে, এই লিংকের আরটিকেলটি কোন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আপনি যদি সাইটের লিংকের গঠন SEO friendly করেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিন সেটিকে ভাল করে বুঝতে পারবে এবং সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শনের সম্ভবনা অনেক বেশি থাকবে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মে সাইট এর লিংক এর গঠন SEO friendly করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

 

প্রথম ওয়ার্ডপরেস ড্যাসবোর্ড লগইন করুন। এডমিন প্যানেল থেকে Settings >> Permalinks পেইজে ক্লিক করুন।

SEO Link

এখানে “post name” অপশন বাচাই করে সেভ চেন্জ বাটন ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে বের হয়ে আসুন।

 

নোটঃ বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আপনার সাইটের বয়স যদি ৬ মাসের বেশি হয়ে থাকে তাহলে কোনভাবেই লিংকের গঠন পরিবর্তন করা বিড়ত থাকুন। আগে থেকে লিংকের যে ফরমেট ব্যবহার করছেন সেটিই ব্যবহার করতে থাকুন।

 

যদি এই লিংকগুলো গঠন পরিবর্তন করেন তাহলে যে লিংকগুলো আপনার ভিজিটর এতদিন সোশাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও শেয়ার করেছে সেগুলো আর কাজ করবে না। সার্চ ইঞ্জিন ও আপনার কন্টেনগুলো আর খুজে পাবে না। ফলে সার্চ ইঞ্জিনের পজিশন নষ্ট হয়ে যাবে।

 

যদি একান্তই সাইটের লিংকের গঠন পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয় তাহলে পরামর্শ হচ্ছে – একজন এক্সপার্ট এর সহায়তা নিন। প্রক্রিয়াটি অনেক জটিল এবং নতুন হিসাবে আপনি সফলভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন না। ফলে বিগত দিনের সুনাম, সার্চ পজিশন এবং ভিজিটর সবকিছু হারিয়ে ফেলবেন।

 

নতুনদের মনে প্রশ্ন www নাকি non-www?

 

ওয়ার্ডপ্রেস এ সাইট করার শুরুতেই সাইটের ঠিকানা নির্ধারন করার জন্য “www” এর ব্যবহার কিংবা “www” ছাড়া যেকোন একটি অপশন বেচে নিতে হবে।

 

উদাহরণঃ আপনার সাইটের ঠিকানা হবে http://www.example.com অথবা http://example.com যে কোন একটি গঠন আপনাকে বেচে নিতে হবে।

 

আপনার মনে হতে পারে দুটির কাজ একই রমক। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন দুটিকে আলাদা সাইট হিসাবে চিহ্নিত করে।

 

নতুনদের মধ্যে প্রায় সবাই প্রথমে দ্বিদা দন্দে পরেন যে, www ব্যবহার করা ভাল না non-www   ব্যবহার করা ভাল। কোনটি SEO friendly ইত্যাদি।

 

www এর ক্ষেত্রে অনেকে অনেক ধরণের পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে www বা non-www ব্যবহারে SEO এর উপর কোন প্রভাব পড়ে না। আপনি যেকোন একটি ব্যবহার করতে পারেন।

 

আমাদের পরামর্শ হচ্ছে শুরুর সময় আপনি যে অপশন বেচে নিবেন সেটিই ব্যবহার করতে থাকুন। পরবর্তীতে কোন পরিবর্তন করবেন না।

WordPress Setting

আপনার পছন্দ অনুযায়ী সাইটে লিংক সেটিং করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এর এডমিন প্যানেল লগইন করুন। সেটিং থেকে জেনারেল ক্লিক করুন। “WordPress Address” এবং “Site Address” এর ঘরে আপনার পছন্দমত লিংক সেট করে সেভ করে বেরিয়ে আসুন।

 

www না non-www ব্যবহার করবেন সেটা নিজেকে প্রশ্ন করুন। কোনটা আপনার কাছে ভাল লাগে সেটাই ব্যবহার করুন।

 

WordPress SEO প্লাগিন

 

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েব সাইট তৈরি করলে বড় যে সুবিধা পাওয়া যায় তাহলো সাইটের SEO. আপনার সাইটের এসইও করার জন্য অনেক সুবিধা পাবেন এখানে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন স্টোরে হাজার হাজরা প্লাগিন রয়েছে যা প্রয়োজন অনুসারে সাইটে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

SEO করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এ অনেক ধরণের প্লাগিন রয়েছে। এক একটা প্লাগিন এ একেক ধরণের সুবিধা রয়েছে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ডাইরেক্টরিতে হাজারেরও বেশি SEO প্লাগিন রয়েছে। সেগুলো থেকে সবচেয়ে ভাল এবং সকল ধরণের সুবিধা পাওয়া যায় এমন একটি প্লাগিন বাচাই করতে হবে।

 

এই কাজটি বেশ কষ্টসাধ্য এবং নতুন হিসাবে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে কোনটি অনেক ভাল কিংবা কোন প্লাগিন এ কি সুবিধা রয়েছে।

 

আমরা আপনাকে SEO করার জন্য ভাল প্লাগিন এবং যে প্লাগিন এ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে এবং বিনামূলে যাতে ব্যবহার করতে পারেন এ ব্যপারে বিস্তারিত সহায়তা করবো।

 

ওয়েবসাইটের জন্য সবেচয়ে ভাল SEO প্লাগিন নির্বাচনঃSEO Plugin Free

আমাদের দেখা ওয়ার্ডপ্রেস SEO করার জন্য সবচেয়ে ভাল প্লাগিন হচ্ছে Yoast SEO এবং All in one SEO Pack প্লাগিন। আমরা এই সাইটের জন্য Yoas SEO প্লাগিনটি ব্যবহার করছি।

 

আমরা এই সাইটে Yoast SEO প্লাগিনটি ব্যবহার করছি তাই এই আর্টিকেলে এই প্লাগিন দিয়ে এসইও এর বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করবো।

 

প্লাগিন কিভাবে সাইটে ইন্সটল করতে হয় সেই প্রক্রিয়া জানতে ওয়ার্ডপ্রেস এর অন্যান্য আর্টিকেল বা টিউটোরিয়ালগুলো দেখে নিতে পারেন। আপনি যদি ওয়েব সাইট তৈরিতে একদম নতুন হন এবং আপনার হাতে যদি একটি এন্ড্রোয়েড ডিভাইস থাকে তাহলে আমার পরামর্শ হলো “WordPress সম্পূর্ণ গাইডলাইন” মোবাইল অ্যাপটি প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করে সাথে রাখা।

 

ওয়ার্ডপ্রেস SEO সম্পর্কিত এই আর্টিকেলটি মূলত “WordPress সম্পূর্ণ গাইডলাই” মোবাইল অ্যাপটি অনুসরণ করে লিখা হয়েছে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস গাইডলাইন মোবাইল অ্যাপটি আপনার সাথে থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস সংক্রান্ত যে কোন তথ্য আপনি সাথে সাথেই পেয়ে যাবেন। বিভিন্ন ধরণের সমস্যগুলো কিভাবে সমাধান করবেন তা জেনে পদক্ষেপ নিতে পারবেন। অ্যাপটি ব্যবহারে বড় সুবিধা হলো এই যে, একজন নতুন ব্যবহারকারীর জন্য এটা একটা পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন।

 

প্লে-স্টোর এ গিয়ে “WordPress সম্পূর্ণ গাইডলাই” লিখে সার্চ দিলে অ্যাপটি পেয়ে যাবেন।

 

আমরা আলোচনা করতেছিলাম WordPress SEO এর সম্পূর্ন গাইডলাইন নিয়ে। ওয়ার্ডপ্রেস এর  SEO করার সবচেয়ে ভাল প্লাগিন কোনটি সে সম্পর্কে উপরেই আলোচনা করেছি এবং আমরা সাইটে SEO করার কোন প্লাগিন বা আর্টিকেলটিতে কোন প্লাগিন নিয়ে আলোচনা করছি সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

WordPress ওয়েবসাইটের XML Sitemap তৈরি করাwebsite sitemap

XML Sitemap সাইটের বিষেশ ফরমেটের ফাইল যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের প্রতিটি পেজ এবং পোস্ট সয়ংক্রিয় আপডেট হয়। প্রকৃতপক্ষে সাইটের XML সাইটম্যাপ তৈরি করা হয় সার্চ ইঞ্জিনগুলোর জন্য যাতে সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজেই ওয়েব সাইটের ভিন্ন ভিন্ন আর্টিকেল খুজে নিয়ে সেগুলোকে সার্চ রেজাল্ট এর পজিশন প্রদান করে।

 

XML Sitemap কোনভাবেই ওয়েব সাইটের সার্চ এর অবস্থান পরিবর্ত কিংবা বাড়াতে পারে না।  ইহা শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনকে সহায়তা করে থাকে যাতে সার্চ ইঞ্জিন ভাল করে সাইটে প্রকাশিত বিভিন্ন পেইজ এবং পোস্টকে বুঝতে পারে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে যদি Yoast SEO প্লাগিনটি, আপনি ব্যাবহার করেন তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সাইটের একটি সাইটম্যাপ তৈরি হবে। সাইটের সাইটম্যাপ দেখার জন্য নিচের লিংক অনুস্বরণ করুন।

 

http://example.com/sitemap_index.xml

 

example.com এর জায়গায় আপনার সাইটের নাম ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

 

স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া সাইটম্যাপ কোন সার্চ ইঞ্জিন এর যুক্ত করা সম্ভব হয় না এ জন্য আপনাকে কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

 

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইট যুক্ত করার প্রক্রিয়া

Google Search Console

 

Google Search Console বা Webmaster Tools হিসাবে পরিচিত গুগলের একটি বিখ্যাত সেবা যার মাধ্যমে ব্লগ কিংবা ওয়েব সাইটের মালিকগণ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করে। যেমন- সাইটটি সার্চ ইঞ্জিনে কি অবস্থায় আছে এবং সার্চ ইঞ্জিনে সাইটের পারফমেন্স, কোন সমস্যা, লিংকের গঠন, ভিজিটরের বিস্তারিত তথ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায় এই Google Search Console বা Webmaster Tools এর মাধ্যমে।

 

Google Search Console বা Webmaster Tools এর মাধ্যমে ওয়েব সাইটের যে যে বিষয়গুলো জানা যায়

 

সার্চ ইঞ্জিনে সাইটের কোন পেজ বা পোস্ট কিভাবে প্রদর্শিত হয়, সে সম্পর্কে ধারণা এবং সাইটকে ব্যবহারকারীরা কিভাবে ব্যবহার করছে অথবা খুঁজে পাচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শন করে।

 

এছাড়াও যদি ভিজিটর সাইট ব্যবহার করতে না পারার কারণ। সাইটের কনটেন্ট, রেসপন্স টাইম, সার্ভার এর সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে সাইট মালিকদের সহযোগিতা করে। ফলে সহজেই সমস্যা গুলো সমাধান করা সম্ভব হয়।

 

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া

 

Searce Crawl

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এ Yoast SEO প্লাগিনটি ব্যবহার করা থাকলে এই প্লাগিন এর ১১ নাম্বার ধাপটি দেখুন – Yoast Guide । এখানে বিস্তারিত দেওয়া আছে।

 

 

গুগল সার্চ কনসোল এর সাথে ওয়েবসাইট যুক্ত করে Crawl Menu থেকে Sitemaps বাটনে ক্লিক করুন। এখানে ওয়েবসাইটের জন্য সাইটম্যাপ যুক্ত করতে হবে। সাইটম্যাপ বাটনে ক্লিক করার পর, আপনার সামনে একটি নতুন পেইজ ওপেন হবে সেখানে “sitemap_index.xml” কপি করে সাবমিট সাইটম্যাপ বাটনে ক্লিক করুন।

সাবমিট সফলভাবে হলে pending অবস্থায় সেটি দেখতে পাবেন। গুগল, আপনার ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপকে সফলভাবে যুক্ত করতে কিছুটা সময় নিবে। কিছু সময় পর, গুগলে আপনার সাইটম্যাপ এর অবস্থান দেখা যাবে। আপনার সাইট এর লিংক সম্পর্কিত তথ্য দেখাসহ এর মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার পেইজ, পোস্ট, ইমেইজ এর ঠিক কতগুলো সঠিকভাবে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয়েছে ইত্যাদি।

আমাদের পরামর্শ হলো, গুগলে কমপক্ষে ৩০ দিনের তথ্য একসাথে দেখবেন এবং এতে করে সাইটের সকল তথ্য ভালভাবে জানা যায়।

ওয়েবসাইটের পোস্টকে অপটিমাইজড করা

সাধারণতা নতুন ওয়েবসাইট মালিকরা সবাই চিন্তা করেন, প্লাগিন এবং গুগল সার্চে সাইটকে যুক্ত করলেই সকল কাজ শেষ। এটা হলো ওয়েবসাইট মালিকদের সবচেয়ে বড় ভুল। মনে রাখবেন, SEO একটি চলমান প্রক্রিয়া। আপনি যদি আপনার সাইটে ভিজিটর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চান তাহলে আপনাকে নিয়মিত SEO এর সাথে সম্পর্কিত সকল কাজগুলো নিয়মিত করতে হবে এবং ওয়েবসাইটের আর্টিকেল কীওয়ার্ড রিসার্চ-Keyword Research অনুযায়ী করতে হবে।

 

Yoast SEO প্লাগিন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার প্রতিটি পেইজ এবং পোস্টে আর্টিকেল এর title, description, এবং focus keyword যুক্ত করার সুবিধা দেয় । আপনার আর্টিকেল কিভাবে গুগলে প্রদর্শিত হবে সেটিও দেখতে পারবেন । আমাদের পরামর্শ হলো, কনেটেন্ট এর ভিজিটর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই title এবং description অংশটিকে ভাল করে ব্যবহার করুন।

 

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে যখন নতুন কোনও পেইজ কিংবা কোন পোস্ট লিখেন তখন স্ক্রল করে নিচের দিকে নেমে আসলে Yoast SEO এর নিচের ছবির মত একটি অংশ দেখতে পাবেন ।

 

এখানে প্রতিটি আর্টিকেলের নিচের এই অংশে কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হবে কেননা এটি SEO এর জন্য অনেক বড় ভুমিকা পালন করে। এখানে তিনটি অংশে কাজ করতে হয়।

 

  1. FOcus Keyword
  2. SEO Title এবং
  3. Meta Description

Focus Keyword: আপনি যখন কোনও পেইজ কিংবা পোস্ট লিখেন, তখন এই আর্টিকেলের প্রধান বিষয় সম্পর্কিত একটি কিংবা একাধিক শব্দ নির্ধারণ করবেন অর্থাৎ পোস্টে কীওয়ার্ড রিসার্চ-Keyword Research এ যে কিওয়ার্ড গুলো ঠিক করেন । এগুলো হলো Focus Keyword ।

SEO Title: এটি হচ্ছে আপনার আর্টিকেল এর হেডিং বা শিরোনাম। এই অংশে আপনার আর্টিকেল এর শিরোনাম দিবেন।

Meta Description: এই অংশে আর্টিকেল এর সার-সংক্ষেপ সামারি লিখবেন। মনে রাখবেন, এই অংশে যা লিখবেন সেটাই গুগল সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করবে।

এই সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত জানার জন্য অনুগ্রহ করে আমাদের On Page SEO আর্টিকেলটি ভাল করে পড়ুন।

 

SEO করার চমৎকার কিছু টিপস

 

সার্চ অপটিমাইজেশন এর বেসিক এবং SEO প্লাগিন ইন্সটল করলে SEO সম্পর্কে ওয়েবসাইটের অনেক কাজই করা হয়ে যায় । তারপরও আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন গুলো থেকে আরও ভাল সার্চ পজিশন পেতে চান তাহলে নিম্নে প্রদর্শিত ধাপগুলোকে অবশ্যই অনুসরন করুন। এই কাজগুলো করতে কোডিং সম্পর্কে তেমন কোনও জ্ঞান থাকা জরুরী নয়।বিষেশ লক্ষণীয় যে, আপনি যদি আমাদের প্রদত্ত নিয়মগুলোকে প্রতিনিয়ত অনুসরন করতে থাকেন তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি –

You can see a big difference

 

Categories এবং Tags যথাযথ ব্যবহার করুন

ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সকল আর্টিকেল/পোস্ট সমূহকে বিষয়ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে Categories এবং Tags ব্যবহার করার সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি প্রতিটি পোস্টকে বিশেষভাবে শ্রেণীবিন্যাস করে সাজাতে পারবেন। অর্থাৎ, ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলোকে নির্দিষ্ট টপিক অনুযায়ী রাখতে পারেন যাতে ভিজিটর খুব সহজেই প্রয়োজন অনুসারে আর্টিকেল খুঁজে নিতে পারে।

 

ক্যাটাগরি এবং ট্যাগ এর ব্যবহার, সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বুঝতে এবং জানতে সহায়তা করে। এখনে প্রশ্ন হলো, ক্যাটাগরি এবং ট্যাগ এর সবচেয়ে ভাল ব্যবহার কিভাবে করা যায়?

 

ক্যাটাগরি হলো সাইটের প্রকাশিত সকল আর্টিকেলগুলোকে কোনও নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সাজানো গুছানো। বুঝতে পারেছেন? মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইট হলো একটি বই যেখানে ক্যাটাগরির হলো তার সূচীপত্র। যেমন, আমাদের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি ভিত্তিক সাজানো হয়েছে। যেমন, blog, সরকারি চাকুরি,শিক্ষার্থী সেবা , Tutorial ইত্যাদি। এখানে উল্লেখিত নামগুলো হচ্ছে এক একটি ক্যাটাগরি।

 

অন্যদিকে, ট্যাগ হচ্ছে আর্টিকেল এর বিষয়সমূহ এর সাথে মিল রেখে আরও নির্দিষ্ট করে সাজানো প্রক্রিয়া কৌশল। যেমন ধরুন, আপনি একটি Travel সম্পর্কিত ব্লগ করেছেন এবং যেখানে আপনি বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এর বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল প্রদান করেছেন। তাহলে Ocean, Sea Beach, Resort, Cottage হলো এক একটি ট্যাগ।

 

আপনি যখন সঠিকভাবে ক্যাটাগরি এবং ট্যাগ ব্যবহার করেন তখন ভিজিটর সহজেই আপনার সাইট সম্পর্কে ভাল ধারণা পায় এবং সহজেই ওয়েবসাইট ভাল করে ব্যবহার করতে পারে। ঠিক একই রকম করে সার্চ ইঞ্জিনও ভাল করে আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বুঝতে সক্ষম হয়।

 

ওয়েবসাইটেরে পোস্টে Internal Linking যথাযথ ব্যবহার করুন

আর্টিকেলের শুরুতেই বলা হয়েছিল, সার্চ ইঞ্জিন কোন সাইটের প্রতিটি আর্টিকেল, পেইজ কিংবা পোস্টকে ভিন্ন ভিন্ন রেঙ্ক/পজিশন প্রদান করে। মজার বিষয় হলো ঠিক কি কি নিয়ম মেনে গুগল এই স্কোর প্রদান করে সে সম্পর্কে জানার কোন উপায় নেই। তবে আমরা ধারণা করি, গুগল ইচ্ছা করেই স্কোর প্রদানের সকল বিষয়গুলোকে লুকিয়ে রাখছে, যাতে করে কেউ তাদের সার্চ স্কোর এর সিস্টেমকে ব্রেক-ডাউন কিংবা এর সাথে ছলচাতুরী করতে না পারে। তবে বিষেশজ্ঞদের রিসার্চ এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গুগল এর পেইজ স্কোর এর পিছনে অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে পেইজ এর মধ্যবর্তী লিংক।

 

এর জন্য SEO এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের পেইজ কিংবা আর্টিকেলকে অন্য কোন পেইজ কিংবা আর্টিকেল এর সাথে লিংক স্থাপন করে যুক্ত করা। একজন ব্লগার কিংবা ওয়েবসাইটের মালিক হিসাবে interlink কে নিজ অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে অকেনটা সফলতার আশা করা যায়। যেমন মনে করুন এই আর্টিকেলে বিষয়বস্তু এর জন্য অন্যান্য আরও কিছু আর্টিকেল এর লিংক প্রদান করেছি। আশা করি বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। মূলত এটাকে বলা হয় Internal Linking ।

 

আর্টিকেলের কমেন্ট অপটিমাইজেশন

কমেন্ট হলো একটি ওয়েবসাইট, ভিজিটরদের কাছে ঠিক কি পরিমাণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সেটা পরিমাপ করার একটি সুষম মাধ্যম। খুব বেশী পরিমাণ ভিজিটর এর অর্থ হলো খুব বেশী লিংক শেয়ার, অনেক বেশী ট্র্যাফিক যা WordPress SEO এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে একটি জরুরী বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আপনার সাইটের কমেন্টগুলো যেন সম্পূর্ণভাবে আসল এবং এদের মধ্যে কোন SPAM কমেন্ট যেন না থাকে। যারা স্প্যাম ছড়ানোর কাজ করছে তাদের শেয়ারকৃত লিংকগুল হচ্ছে খারপ যাকে SEO এর ভাষাইয় বলা হয় Bad Links । আর এই খারাপ লিংকগুলো, সার্চ পজিশন এর স্কোর নষ্ট করার প্রধান কারন হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

এটা থেকে সুরক্ষার জন্য আমরা সবাইকে পরামর্শ প্রদান করি Akismet প্লাগিন ব্যবহার করার। এই প্লাগিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল হবার সাথে সাথেই সাইটে চলে আসে এবং এটি SPAM Comment এর বিপরীতে সাইটকে সুরক্ষা প্রদান করে।

যদি আপনি সাইটে/ব্লগে আসল কমেন্ট খুব বেশী পরিমাণ পান তাহলে আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন, কষ্টকরে এইরকম ওয়েবসাইট তৈরির জন্য।

তবে অন্যদিকে এর একটি সমস্যা হচ্ছে, কোনও আর্টিকেলে যদি বেশী সংখ্যক কমেন্ট থাকে তাহলে ব্রাউজারে সেটি লোড হতেও অনেক বেশী সময় নেয় যা সার্চ স্কোর এর উপরও খারাপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

সুতরাং, একজন ওয়েবসাইটের মালিক কিংবা ব্লগার হিসাবে ওয়েবসাইটে ব্যাপক সংখ্যক কমেন্ট রাখার জন্য হোস্ট সার্ভার এবং এর স্পীড সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। চাইলেই খুব বেশী সংখ্যক কমেন্টকে ভিন্ন ভিন্ন পেইজে কনভার্ট করে নিয়ে ওয়েবসাইটের স্পীড ঠিক রাখা যায়। বিস্তারিত জানার জন্য অনুগ্রহ করে আমাদের কমেন্ট থেকে পেইজ এই আর্টিকেলটি বিস্তারিত পড়ুন।

 

শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন হতে টাকা আয় করার সহজ পদ্ধতি

 

সাইটে NoFollow এক্সটারনাল লিংক এর ব্যবহার

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গেছি যে, লিংক SEO এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনে সহায়তা করে। যখন কোন ওয়েবসাইট এর লিংক নিজের আর্টিকেল কিংবা সাইটে যুক্ত করা হয় তখন এর অর্থ হলো সাইটের কিছু সার্চ স্কোরকে সেই লিংকে বাইপাস করে দেওয়া। এটাকে কোডিং এর ভাষায় “link juice” বলে।

ভাল সার্চ পজিশন এর জন্য আপনার প্রয়োজন নিজের স্কোর অন্যকে প্রদানের থেকে অন্যের কাছে থেকে বেশী পরিমাণ স্কোর গ্রহন করা।

লিংক শেয়ার করার সময় (যেই ওয়েবসাইট এর লিংক আপনার নয়) “nofollow” কোডটি ব্যবহার করার মাধ্যমে, সার্চ ইঞ্জিনকে জানানো হয় যে, সেই লিংক আপনার নয় এবং সেটিকে অনুসরন করারও কোন প্রয়োজন নেই। এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে নিজের link juice রক্ষা করা হয়।

 

একটি সাধারণ HTML লিংক দেখতে হয় অনেকটা এই রকমঃ

 

<a href=”http://example.com”>Example Website</a>

 

যখন লিংক এর সাথে “nofollow” কোড ব্যবহার করা হয় তখন সেটি দেখতে অনেকটা এ রকম –

 

<a href=”http://example.com” rel=”nofollow”>Example Website</a>

 

Post এবং Excerpts এর মধ্যকার পার্থক্য

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্ম, এ Home page, category archive, tags archive, date archive, author pages লিংক, স্বয়ংক্রিয় প্রদর্শন করে থাকে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই পেইজগুলো কনটেন্ট এর সম্পূর্ণ আর্টিকেল প্রদর্শন হয়। এই প্রক্রিয়া সাইটের SEO এর উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। কারন সার্চ ইঞ্জিন এই কনটেন্টগুলোকে duplicate content হিসাবে বিবেচনা করবে। এছাড়াও, সম্পূর্ণ আর্টিকেল সাইটের আর্কাইভ পেইজকে ব্রাউজারে লোড হওয়ার একটি অন্যতম কারণও বটে।

 

অন্যদিকে, আর্কাইভ পেইজে সম্পূর্ণ কনটেন্ট প্রদর্শন, সাইটের পেইজভিউ এর উপরে অনেক বেশী প্রভাব পড়ে। যেমন মনে করুন, ভিজিটর এর মধ্যে যারা আপনার সাইটের RSS Feed সাবস্ক্রাইব করেছে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্টিকেল এর সম্পূর্ণ অংশ পড়তে পারবে ফলে তারা আর ক্লিক করে মূল অংশ ব্রাউজ করার কোনও প্রয়োজন মনে করবে না।

 

এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো কনটেন্ট প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আর্টিকেল এর বিপরীতে সার-সংক্ষেপ অপশন ব্যবহার করা। এটাকে বলা হয় “excerpts” ।

 

excerpts করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এর এডমিন প্যানেল থেকে Settings » Reading অপশনটি ক্লিক করে, সেখান থেকে summary নির্বাচন করে সেইভ করুন।সেভ হয়ে গেলে এরপর বেরিয়ে আসুন।

 

সাইটের স্পীড এবং সিকিউরিটি

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর সকল কাজ করা হলেও সাইটের স্পীড এবং সিকিউরিটি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ SEO স্কোর এর উপর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। যদি আপনার সাইটের স্পীড খুব বেশী পরিমাণ ধীরগতির হয়ে থাকে কিংবা আপনার সাইট কোনওভাবে হ্যাকার এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সার্চ রেজাল্ট এর উপর খুবই খারাপ প্রভাব পড়ে যার ফলে সাইটের পজিশন নষ্ট হয়ে যায়।

 

নিচে আমরা কিছু ধাপ নিয়ে আলোচনা করবো যার মাধ্যমে সার্ভারের ধীরগতি কিংবা সিকিউরিটি এর কারনে যাতে সাইটের সার্চ স্কোর এর উপর কোন প্রভাব না পরে সে সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যায়।

 

ব্লগারদের জন্য গুগল এডসেন্স এর কয়েকটি সেরা বিকল্প

 

অপটিমাইজড সাইট স্পীড এবং পারফর্মেন্স

ওয়েবসাইট ধীরগতির হলে একজন ভিজিটর সাধারণত ভিন্ন কোনও আর্টিকেল কিংবা নতুন কোনও প্রোডাক্ট দেখার আগেই ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যায়। কারন, সেই প্রোডাক্ট কিংবা কন্টেন্ট তখনও লোডিং অবস্থাতেই প্রক্রিয়ায় হয়তোবা থাকবে।ওয়েবসাইটের জন্য Speed এর গুরুত্ত কত, তা কিছুটা হলেও এখন বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন বলে আশা করি ।

 

প্রতিটি ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগের মুল লক্ষ্য হচ্ছে, ভিজিটরদের মনোযোগ আকর্ষণ। যেমন ধরুন আপনি যদি কোনও ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে, আপনার টার্গেট হলো কাস্টমার যাতে বেশী করে আপনার ওয়েবসাইটে সময় কাটায়। এরফলে যাতে করে তারা একটি প্রোডাক্ট এর বদলে আরও বেশী পরিমাণ প্রোডাক্ট কিনে নেওয়ার জন্য আগ্রহী হয়।

 

ওয়েবসাইট এর মালিক কিংবা ব্লগার হিসাবে আমরা মূলত খুব অল্প সময় পাই এবং এই সময় এর মধেই আমাদের একজন ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে হবে যাতে করে তিনি ওয়েবসাইটের অন্যান্য অংশগুলোও ঘুরে দেখতে আগ্রহী হন এবং ঘুরে দেখেন।

 

সার্চ জায়ান্ট Google এবং Bing ইতিমধ্যেই ধীরগতির ওয়েবসাইট গুলোকে খুঁজে বের করে সার্চ রেজাল্ট এর একদম শেষ দিকে প্রদর্শন করে।এর অর্থ হলো, সার্চ ইঞ্জিন থেকে ওয়েবসাইটের ভিজিটর কিংবা ট্র্যাফিক কমে যাওয়া।

সাইটের ইমেইজ অপটিমাইজেশন করা

ইমেইজ হচ্ছে যেকোনো আর্টিকেল আকর্ষণের জন্য একটি উপযুক্ত মাধ্যম। অর্থাৎ ইমেইজ কিংবা ছবি যেকোনো আর্টিকেলকে অনেকবেশী প্রানবন্তকর করে দর্শককে আকর্ষণ করে। ভিজিটর সংক্রান্ত একটি রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী রঙিন ইমেইজ প্রায় ৮০% ভিজিটরকে আর্টিকেল পড়তে উৎসাহিত করে।

কিন্তু যদি ওয়েবসাইটের ইমেইজ সম্পূর্ণরুপে Optimized করা না হয়, তাহলে সেটি সহায়তার বিপরীতে ক্ষতিই করতে পারে অনেক বেশী। অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় ৬০% নতুন ওয়েবসাইট এর স্পীড কম হয় শুধুমাত্র ইমেইজ এর কোয়ালিটি সম্পূর্ণরূপে Optimized না করার ফলে।

 

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার লক্ষণগুলো জেনে নিন

 

প্রথম অবস্থায় একটি ইমেইজ এর সাইজ অনেক বড় হয় কিন্তু যদি সেটাকে কোনও এডিটিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ফাইল ফরমেট এবং কমপ্রেস করা হয় তাহলে ইমেইজ এর আকার প্রায় ৫x গুন পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

আরও একটি কৌশল হলো, ইমেইজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য সহায়ক হিসাবে তৈরি করার জন্য ইমেইজ আপলোড করার পর সেটির Title এবং Alt Text এর সঠিক ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন ইমেজটি ঠিক কি সম্পর্কিত সেটা সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হয়।

 

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সিকিউরিটি সিস্টেম

প্রতি সপ্তাহে Google, ম্যালওয়্যার এর কারণে ২০,০০০ এবং বিতর্কিত কনটেন্ট/নকল কনটেন্ট রাখার কারণে প্রায় ৫০,০০০ ওয়েবসাইটকে blacklist এ পাঠায়। এবং এই ধরনের ওয়েবসাইট কোনওভাবেই আর গুগল সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শিত হয় না বা হতে পারে না।

 

অর্থাৎ, সিকিউরিটি সিস্টেম হলো যেকোনো ওয়েবসাইটের সার্চ স্কোর এর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেহ নিশ্চয় চাইবে না যে, কঠোর পরিশ্রম করে SEO করার পর সেটি কোন হ্যাকার এর কারনে নষ্ট হয়ে যাক।

 

নতুনরা সাধারণ ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি সিস্টেম নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বেশি। ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলচনা করবো। কিভাবে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য সুরক্ষা প্রদান করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য অনুগ্রহ করে ওয়ার্ডপ্রেস সিকিউরিটি গাইড আর্টিকেলটি বিস্তারিত পড়ুন।

 

অনলাইন ইনকাম ও প্রতারণা

 

ওয়েবসাইটের SSL/HTTPS এর ব্যবহার

SSl হলো একটি সংক্ষিপ্ত নাম যার সম্পূর্ণ অর্থ হলো, Secure Sockets Layers । এটি মূলত একটি encryption protocols যা একটি ওয়েবসাইটের তথ্যকে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে এবং এই সুরক্ষার প্রমাণ হিসাবে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করে থাকে।

উক্ত সার্টিফিকেটটি একটি ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীকে তাদের তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে। SSL অনেকে TLS নামেও চেনে যার সম্পূর্ণ আর্থ হলো, Transport Layer Security protocol ।

 

বর্তমানে প্রায় সব ব্রাউজারে ওয়েবসাইট ব্রউজকরার সময়, SSL icon (এড্রেসবার এর সবুজ সাইন) ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা ওই ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট সম্পর্কে জানতে পাচ্ছে।

 

SSL এবং TLS protocols শুধুমাত্র যে, ওয়েবসাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়, ইমেইল, SFTP এবং অন্যান্য আরও কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। যেসব সাইটে পেমেন্ট করার সুবিধা থাকে সেখানে এই SSL ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

SSL এবং TLS ওয়েবসাইটে কিভাবে সেট করবেন

সাধারণত হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে SSL ক্রয় করে সাইটে সেট করতে হয়। আপনি SSL সার্টিফিকেট ক্রয় করে হোস্টিং কোম্পানীকে জানালে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সাইটে সেট করে দিবে।

অনেক কোম্পানীতে SSL সহ ডোমেইন ক্রয় করলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।

এছাড়াও বিভিন্ন হোস্টিং প্রোভাইডার যেগুলো ফ্রি SSL সার্টিফিকেট প্রদান করে যেমন, Bluehost এবং Analyzenn থেকে ফ্রি SSL Certificate নিয়ে সাইটে সেট করা যায়। আপনি চাইলে আপনার সাইটে এগুলো একটিভ করে নিতে পারবেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ করে আমদের Free SSL Certificate আর্টিকেল থেকে বিস্তারিত পড়ুন।

 

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে খুব সহজেই একটি ওয়েব সাইট তৈরি করবেন এবং এজন্য কোন প্রকার কোডিং জানার প্রয়োজন পড়বে না এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইট গাইডলাইন দেখুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *