কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের পরিচিতি ও ব্যবহার

কম্পিউটার কাকে বলে? অপারেটিং সিস্টেম কি? ডেস্কটপ কি? আইকন কাকে বলে? কম্পিউটার কিভাবে শিখবো? কম্পিউটার শিখুন

 

কম্পিউটার যুগে আমরা বাস করছি অথচ কম্পিউটার বিষয়ে জ্ঞান রাখবো না তা কি হয়। আসুন আজকে আমরা এই আর্টিকেল থেকে শিখি অপারেটিং সিস্টেম কি? এর ব্যবহার, বিভিন্ন মেনুর কাজ ও সাধারণ সেটিং ইত্যাদি।

মানুষের যেমন জীবন না থাকলে কোন মূল্য নেই তেমনি কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া হার্ডওয়ার শুধু মানুষের কঙ্কালের মত মূল্যহীন। অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সজীব হয়ে উঠে। তাই অপারেটিং সিস্টেমকে কম্পিউটারের প্রাণ বলা হয়।

ইংরেজি Operate শব্দ থেকে Operating শব্দটি এসেছে। এর অর্থ পরিচালনা করা। কম্পিউটারকে পরিচালনা করে যে সফ্টওয়ার তাই অপারেটিং সফ্টওয়ার।

প্রাথমিক অবস্থায় অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে মেইনফ্রেম কম্পিউটারের জন্য ১৯৫১ সালে । আর পার্সোনাল কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহার শুরু হয় ১০৭০ সাল থেকে।

কম্পিউটার কাকে বলে বিস্তারিত জানুন

বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে লার্নিং এন্ড আর্নিং বিনামূল্যে Professional Outsourcing Training এর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্লিক করুন: http://www.ictd.gov.bd/

অপারেটিং সিস্টেম কাকে বলে?

অপারেটিং সিস্টেমের সংজ্ঞাঃ

অপারেটিং সিস্টেম হলো কতিপয় সফ্টওয়ার প্রোগ্রামের সমাহার, য কোন কম্পিউটার সিস্টেমের রিসোর্সসমূহকে নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করে।

 

American National Standard Institite বা ANSI এর সংজ্ঞাটি হচ্ছে, যে সফ্টওয়ার কম্পিউটারকে প্রোগ্রামের কার্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিডিউলিং, ডিবাগিং, ইনপুট/আউটপুট নিয়ন্ত্রণ, একাউন্টিং, কম্পাইলেশন, তথ্যাবলি সংরক্ষণ কার্যক্রম, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং আনুষঙ্গিক কাজসমূহ সম্পাদন করতে পারে, তাকে অপারেটিং সিস্টেম বলে।

 

সুতরাং অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এক ধরণের সফ্টওয়ার যা কম্পিউটারের হার্ডওয়ার ও অ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়ারের মধ্যে সমন্বয় করে কম্পিউটারকে সহজ ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।

 

বিভিন্ন ধরণের অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। আমাদের দেশে সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বেশি ব্যবহৃত হয়। প্রগ্রামাররা অর্থাৎ যারা সফ্টওয়ার ডিজাইন করেন তারা মূলত লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বেশি ব্যবহার করে থাকেন। যারা অ্যাপল কোম্পানীর কম্পিউটার ব্যবহার করে তারা ম্যাকিনটোশ অপারেটিং সিস্টেম (ম্যাক ওএস) ব্যবহার করে। নিচে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের তালিকা দেওয়া হলো।

 

বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের তালিকাঃ

  • TOS (Tape Operatating System)
  • BOS (Basic Operatating System)
  • OS/2 (Operatating System) 2
  • এমএস উইন্ডোজ (Ms Windows), এমএস উইন্ডোজ এনটি (Ms Windows NT), উইন্ডোজ এক্সপি ( Windows XP), উইন্ডোজ ভিসতা (Windows Vista), Windows-7, Windows-8, Windows-10
  • Unix
  • Linux
  • Mac OS
  • Sun Solaris
  • XENIX ইত্যাদি।

প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আলাদা আলাদা পোস্ট আমাদের সাইটে থাকবে। এখানে আমরা উইন্ডোজ এর কিছু সাধারণ মেনু নিয়ে আলোচনা করছি।

 

উইন্ডোজ এর টাস্কবার, স্টার্ট মেনু ও ডেস্কটপ আইকনের ব্যবহার

কম্পিউটার চালু করলে পর্দায় যে স্ক্রিনটি আসে সেটিকে ডেস্কটপ নামে অভিহিত করা হয়। উইন্ডোজ এর ডেস্কটপে সাধারণত যে সকল বিষয় থাকে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

উইন্ডোজ টাস্ক বার:

উইন্ডোজ স্ক্রিনের নিচে দিকে সব সময় যে বারটি উপস্থিত থাকে তাকে টাস্কবার বলা হয়। প্রথমবার কম্পিউটার চালু করার পর টাস্কবারে শুধু স্টার্ট মেনু, সার্চবার, ঘরিসহ অল্প কিছু আইকন প্রদর্শিত হয়। যখন এক একটি অ্যাপলিকেশন ওপেন করা হয় তখন সেই অ্যাপলিকেশনে আইকন টাস্কবারে দেখা যায়।এছাড়াও টাস্কবারে যে কোন প্রোগামকে পিন করে রাখা যায় । পিন করা আইকনে ক্লিক করে দ্রুত প্রোগাম ওপেন করা যায়।

উইন্ডোজের স্টার্ট মেনু

টাস্কবারের বাম প্রান্তে মাইক্রসফ্ট উইন্ডোজের মনোগ্রামের যে বাটনটি তাকে স্টার্ট মেনু বলা হয়। এটি ক্লিক করলে কম্পিউটারের অ্যাপলিকেশনগুলো প্রদর্শন হয়। স্টার্ট বাটন ক্লিক করে কিংবা কীবোর্ড থেকে Ctrl+Ese কী দুটি এক সাথে চাপ দিলে স্টার্ট মেনু ওপেন হয়।

Start মেনু থেকে কোনো প্রোগাম ‍ওপেন করা, কম্পিউটার বন্ধ করা, বিভিন্ন প্রকার কনফিগার করাসহ উইন্ডোজ প্রোগ্রামের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা হয়।

ডেস্কটপ আইকন এবং এদের ব্যবহার

আইকন শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রতীক বা চিত্র। উইন্ডোজ চালু হওয়ার পরে স্ক্রিনে বিভিন্ন ধরনে আইকন প্রদর্শিত হয়। কোন আইকনে ডাবল ক্লিক করলে তা ওপেন করা যায়।

উইন্ডোজ চালু হওয়ার পর সাধারণ ডেস্কটপে যে আইকনগুলো থাকে তা হচ্ছে- My Computer বা This PC, Document, Recycle Bin, Network, Control annel, Internet Explorer ইত্যাদি।

My Computer বা This PC

এই ফোল্ডারের আওতায় হার্ডডিস্কের সকল পার্টিশন ও ডাইরেক্টরি, ফ্লপি ড্রাইভ, সিডি-রম ড্রাইভ, পেন ড্রাইভসহ বিভিন্ন ড্রাইভ ও কন্ট্রোল প্যানেল থাকে। এ সকল ড্রাইভ বা ডাইরেক্টরির তথ্যাবলি দ্রুত অবলকন করা কিংবা অ্যাকসেস করার জন্য এই ফোল্ডার ব্যাবহার করা হয়।

 

My Document

ডিফল্ট সেটিং অনুসারে এ ফোল্ডারে ডকুমেন্ট ও অন্যান্য ফাইল সমূহ সেভ হয়ে থাকে। মাই ডকুমেন্টের আওতায় মাই পিকচার বা মাই গ্যালারি, মাই ভিডিও, মাই অডিও ইত্যাদি ফোল্ডার থাকে।

 

Network

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কিত থাকলে শেয়ার রিসোর্সসমূহ দেখার জন্য এই ফোল্ডার ব্যবহার করা হয়।

 

Recycle Bin

কম্পিউটারের ইহা একটি ট্রানজিট মেমোরি লোকেশন । কম্পিউটার থেকে কোন কিছু ডিলিট করলে তা এখানে জমা হয়। প্রয়োজনে ডিলিট করা কোন কিছু এখান থেকে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু Recycle Bin থেকে ডিলিট করলে তা আর কখনো ফিরিয়ে আনা যায় না।

 

Desktop

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাহায্যে কম্পিউটার চালু করলে প্রথমেই যে স্ক্রিনটি আসে তাকে ডেক্সটপ বলে। প্রোগ্রাম পরিচালনা, ফাইল পরিচালনা ইত্যাদি কাজ সম্পাদনের জন্য পেক্সটপে বিভিন্ন ধরনের আইকন থাকে। আপনি আপনার মনের মত করে ডেক্সটপ সাজাতে পারেন।

 

ইউটিলিটি প্রোগ্রাম

কম্পিউটার সহজে ব্যবহার করা জন্য ইউটিলিটি প্রোগ্রাম অনেক গরুত্ব বহন করে। কম্পিউটারের হার্ডওয়ার ও সফ্টওয়ার মেরামত করার জন্য যে সকল প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয় তাকে ইউটিলিটি প্রোগ্রাম বলে। যেমন- PC Tool, PC Utility, McAfee, Tool Kit, Partition Magic ইত্যাদি।

 

কম্পিউটার কি বা কাকে বলে বিস্তারিত পড়ুন

হুদহুদ কম্পিউটার

হুদহুদ কম্পিউটার - মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর। যোগাযোগঃ Email- [email protected], Mobile-01632391209

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *