দলিল কত প্রকার? দলিলের সংজ্ঞা ও রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন

দলিল কত প্রকার? দলিল কিভাবে করতে হয়? দলিলের সংজ্ঞা; মূল দলিল ফেরত পাওয়ার উপায় কি?

 

দলিল বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে যেমন- সাব কবলা দলিল, দান পত্র দলিল, বন্ধক দলিল ইত্যাদি। আমরা আজকে বিভিন্ন দলিলে সংজ্ঞা আলোচনা করবো। সেই সাথে আপনাদের জানিয়ে রাখি জমি সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার বিনামূল্যে পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন [email protected] এই ঠিকানায়। সমস্যার বিস্তারিত এবং আপনার মোবাইল নাম্বার সহ পূর্ণ ঠিকানা মেইল করুন নতুবা আমাদের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

বিভিন্ন দলিলের সংজ্ঞা জানার আগে কিভাবে দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় বা করবেন সেই বিষয়ে আলোচনা করা যাক। সঠিকভাবে দলিল করতে না পারলে পরবর্তিতে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই যত্নসহকারে দলিল সম্পন্ন করে নিবেন।

 

রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে কাগজ-পত্র প্রয়োজন

 

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল দাখিলের সময় নিম্নলিখিত কাগজপত্রের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে এবং একসেট ফটোকপি এল,টি, নোটিশের সাথে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সংযুক্ত করতে হবেঃ

 

  1. সংশ্লিষ্ট জমির সি,এস,/এস,এ,/আর,এস (বি,আর,এস),নামজারী খতিয়ানের মূল কপি অথবা সহি মোহরীয় নকল। (ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র বা অনলাইন থেকে আবেদন করে জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুমের খতিয়ান সংগ্রহ করুন)
  2. মাঠ পর্চা। (সংশ্লিষ্ট উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করুন)
  3. হাল সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের রশিদ (দাখিলা)। [ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (তহশিলদারের) কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করুন]
  4. ওয়ারিশ সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  5. প্রয়োজনীয় বায়া দলিল সমুহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  6. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম সনদপত্র।
  7. দাতা/সম্পাদনকারী/গ্রহিতাগণের সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  8. TIN (টি, আই,এন) সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

 

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল দাখিলের পূর্বে যা ভালভাবে যাচাই করতে হবে

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল প্রস্তুত হয়ে গেলে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট উপস্থাপনের পুর্বে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ভাল ভাবে দেখতে হবেঃ

 

  1. দলিলের প্রতি পৃষ্টায় দাতার/পক্ষগণের সম্পাদন আছে কি-না।
  2. খতিয়ান অনুযায়ী জমির দাগ নম্বর অংকে ও কথায় লেখা আছে কি- না।
  3. দাগ মোতাবেক জমির হাত নকশা ও পরিমান সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি-না।
  4. সম্পত্তির প্রকৃত শ্রেনী অনুযায়ী সঠিক মূল্য লেখা হয়েছে কি-না।
  5. দাতা/বিক্রেতার এবং ক্রেতা/গ্রহিতার বিক্রিত/অর্জিত জমির হারাহারি মালিকানার পরিমান সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি-না।

 

দলিল দাখিলের সময়সূচি

রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা, ২০১৪ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রেজিস্ট্রি অফিস সমুহে সাধারনত সকল কার্যদিবসে সকাল ১০ ঘটিকা হইতে বিকেল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত দলিলসমুহ রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করা হয়।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, সম্পাদনের পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা ৩ (তিন) মাস। আদালতের ডিক্রী বা আদেশের নকল তা নিষ্পত্তি হওয়ার তারিখ হতে অথবা তা আপীলযোগ্য হলে, আপীল শেষ হওয়ার তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

 

[“Subject to the provisions contained in section 24, 25 and 26 no document other than a Will shall be accepted for registration unless presented for that purpose to the proper officer within three months from the date of its execution.

 

provided that a copy of a decree or order may be presented within three months from the date on which the decree or order was made, or, where it is appealable, within three months from the date on which it becomes final.” Article 23 of the Registration Act, 1908.]

 

রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ১৭এ (২) ধারা মতে, বায়নাপত্র সম্পাদনের তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

 

রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ২৭ ধারা মতে, উইল দলিল যে কোন সময়সীমায় রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করা যায়।

রেজিস্ট্রেশন আইনের ২৫ (১) ধারা মতে, কোন দলিল, ডিক্রী বা আদেশের নকল যদি জরুরী প্রয়োজন বা অনিবার্য দুর্ঘটনাবশত নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করা না হয় এবং বিলম্ব যদি ৪ (চার) মাসের অধিক না হয়, তবে জেলা রেজিস্ট্রার নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফিস এর ১০ (দশ) গুন পর্যন্ত জরিমানা নিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহনের আদেশ দিতে পারেন।

এই আইনের ২৫ (২) ধারা মতে, এ জন্য লিখিত দরখাস্ত সাব-রেজিস্ট্রার এর নিকট দাখিল করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রার ঐ দরখাস্ত জেলা রেজিস্ট্রার এর নিকট প্রেরন করবেন।

 

দলিল রেজিস্ট্রেশনে আপত্তি/অভিযোগের দরখাস্ত

আইন অনুসারে, রেজিস্ট্রেশন করন বা না-করন সংক্রান্ত কোন অভিযোগের দরখাস্ত রেজিস্ট্রি অফিসে দেয়া যায় না। দলিল রেজিস্ট্রি করা বা না-করা সম্পুর্ণ সাব-রেজিস্ট্রারের এখতিয়ার। সাব-রেজিস্ট্রার আইন অনুসারে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে দলিল রেজিস্ট্রির পর কোন পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

 

নিবন্ধন ম্যানুয়াল ২০১৪, এর ৬ষ্ট খন্ডের ৪২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইন ও বিধির অধীন দলিল সমূহের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা স্বয়ং নিবন্ধনককারী কর্মকর্তার কর্তব্য। অতএব নিবন্ধীকরনে আপত্তি বিবেচনায় নেওয়া হইবে না। তবে যদি আপত্তির আবেদনপত্র দাখিল করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে, উহাতে “আপত্তিকারী যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপ আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহন করিতে পারিবেন” মর্মে পৃষ্টাঙ্কনসহ উক্ত আবেদনপত্র ফেরৎ প্রদান করিতে হইবে।

 

সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করতে অস্বীকার করলে করনীয়

রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩৫ (৩) অনুসারে, নিম্নলিখিত যেকোন একটি কারনে সাব-রেজিস্ট্রার আপনার দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করতে অস্বীকার করতে পারেঃ

 

  • যদি কোন সম্পাদনকারী দলিলের সম্পাদন অস্বীকার করেন,

 

  • রেজিস্ট্রারিং অফিসার কোন সম্পাদনকারীকে নাবালক, জড়বুদ্ধি সম্পন্ন বা পাগল বলিয়া মনে করেন,

 

  • দলিল সম্পাদনকারীর মৃত্যুর পর তাহার প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি যদি দলিল সম্পাদন অস্বীকার করেন।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করতে অস্বীকার করলে করনীয়

  • রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭১ (১) অনুসারে, “দলিলে উল্লিখিত সম্পত্তি তাহার নিজ উপজেলায় নয়” এই কারন ব্যতিত অপর যে কোন কারনে কোন দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানালে সাব-রেজিস্ট্রার তার কারন ২ নং রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন এবং কোন এক পক্ষ আবেদন করলে লিখিত কারন সমুহের নকল বিনা খরচে প্রদান করবেন।

 

  • ধারা ৭১ (২) অনুসারে, এরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার এর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করবেন না।

 

  • ধারা ৭২ (১) অনুসারে, সম্পাদনকারী কর্তৃক “সম্পাদন অস্বীকার করা” ব্যতিত অন্য কোন কারনে সাব-রেজিস্ট্রার কোন দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানালে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক অস্বীকৃতির আদেশের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট আপিল করতে হবে।

 

  • ধারা ৭২ (২) অনুসারে, জেলা রেজিস্ট্রার শুনানি গ্রহনের পর দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আদেশ দিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার এর নিকট দাখিল করবেন। এরূপে দাখিল করা হলে সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রহন করিবেন।

 

  • ধারা ৭৩ (১) অনুসারে, দলিলের সম্পাদনকারী বা তাহার প্রতিনিধি বা তাহার মনোনীত ব্যক্তি দলিলের “সম্পাদন অস্বীকার” করার কারনে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকৃত জানালে, উক্ত দলিলের গ্রহিতা, গ্রহিতার প্রতিনিধি বা গ্রহিতার মনোনীত ব্যক্তি উক্ত অস্বীকৃতির আদেশদানের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট দলিল রেজিস্ট্রির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লিখিত আবেদন করতে পারেন।

 

  • ধারা ৭৩ (২) অনুসারে, সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি-আদেশের নকল ও লিখিত দরখাস্ত অগ্রাহ্য দলিলের সাথে জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করতে হবে।

 

  • ধারা ৭৫ (১) ও (২) অনুসারে, জেলা রেজিস্ট্রার রেজিস্ট্রির আদেশ দিলে এবং আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল হলে, সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করবেন।

দলিল কত প্রকার বা বিভিন্ন দলিলের সংজ্ঞা:

শুরুতেই আমরা বলেছি যে, দলিলের প্রকাভেদ ও এর সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করা হবে।তাই নিচে বিভিন্ন প্রকারের দলিলের সংজ্ঞা প্রদান করা হলো।

 

বিক্রয় কি?

বিক্রয় হইল পরিশোধিত মূল্যের বা পরিশোধ করিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বা আংশিক পরিশোধিত এবং আংশিক পরিশোধ করিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মূল্যের বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তর (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ৫৪ ধারা অনুসারে)।

 

সাব কবলা দলিল কাকে বলে?

পরিশোধিত বা আংশিক পরিশোধিত এবং আংশিক পরিশোধ করিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আর্থিক মূল্যের বিনিময়ে কোন সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বিষয়ক দলিলকে কবলা দলিল বলে।

 

বায়নাপত্র দলিল বা বিক্রয়চুক্তি দলিলের সংজ্ঞা:

কোন সম্পত্তি স্থিরকৃত শর্তে এবং সাব্যস্তকৃত মূল্যের আংশিক প্রাপ্তির পর উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর বিষয়ে পক্ষগণের মধ্যে যে দলিল সম্পাদিত হয়, তাকে বায়নাপত্র দলিল বলে। রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ১৭ক(২) ধারা অনুসারে, বায়নাপত্র দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে হয়।

হেবা ঘোষণাপত্র দলিল কি?

যে দলিলের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক স্বামী ও স্ত্রী মধ্যে, পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনির মধ্যে, নানা-নানী ও নাতি-নাতনির মধ্যে, সহোদর ভাইগণের মধ্যে, সহোদর বোনগনের মধ্যে এবং সহোদর ভাই ও বোনগনের মধ্যে বিনিময়ে কোন কিছু গ্রহণ না করে পূর্বের কোন সুনির্দিষ্ট সময়ে নূন্যতম দুইজন স্বাক্ষির উপস্থিতিতে মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে হস্তান্তরিত সম্পত্তির স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, তাকে হেবা ঘোষণা দলিল বলে।

 

দান বিষয়ক ঘোষণাপত্র দলিল কাকে বলে?

যে দলিলের মাধ্যমে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীগণের স্ব স্ব ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইন মোতাবেক স্বামী ও স্ত্রী মধ্যে, পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনির মধ্যে, নানা-নানী ও নাতি-নাতনির মধ্যে, সহোদর ভাইগণের মধ্যে, সহোদর বোনগনের মধ্যে এবং সহোদর ভাই ও বোনগনের মধ্যে বিনিময়ে কোন কিছু গ্রহণ না করে পূর্বের কোন সুনির্দিষ্ট সময়ে নূন্যতম দুইজন স্বাক্ষির উপস্থিতিতে মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে হস্তান্তরিত সম্পত্তির স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, তাকে “দান বিষয়ক ঘোষণা দলিল” বলে।

 

ভ্রম সংশোধন দলিল কি?

যে দলিলের মাধ্যমে মূল দলিলের বস্তুগত বিষয়সমুহ অপরিবর্তিত রেখে পূর্ববর্তী দলিলের করণিক ভুল (clarical mistake) বা (bonafide mistake) সংশোধন করা হয়, তাকে ভ্রম সংশোধন দলিল বলে। এ দলিল মূল দলিলের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

 

দানপত্র দলিল কাকে বলে?

যে দলিলের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এবং পণ ব্যতীত কোন সম্পত্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন, এবং দান গ্রহিতা বা তার পক্ষে অন্য কেউ উক্ত সম্পত্তি গ্রহন করেন, তবে তাকে দানপত্র দলিল বলে।

 

এওয়াজ বা বিনিময় দলিল কাকে বলে?

যে দলিলের মাধ্যমে এক পক্ষের কোন জিনিসের মালিকানার পরিবর্তে অপর পক্ষের কোন জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর হয়, তাকে এওয়াজ বা বিনিময় দলিল বলে।

 

হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল কি?

যে দলিলের মাধ্যমে প্রতীকী কোন বস্তু যেমন- ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ, তসবিহ ইত্যাদির বিনিময়ে কোন সম্পত্তি দান করা হয়, তাকে হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল বলে।

বন্ধক দলিল কাকে বলে?

যে দলিলের মাধ্যমে ঋণ হিসেবে অগ্রিম প্রদত্ত বা ভবিষ্যতে প্রদেয় অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ দেনা পরিশোধের নিশ্চয়তা অথবা আর্থিক দায় সৃষ্টি করিতে পারে এইরূপ কোন কার্য সম্পাদনের অঙ্গীকার হিসেবে নির্দিষ্ট স্বাবর সম্পত্তির স্বার্থ হস্তান্তর করা হয়, তাকে বন্ধক দলিল বলে।

 

পুনঃসমর্পণ দলিল কি?

 

যে দলিলের মাধ্যমে গৃহীত ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পত্তির বন্ধক-গ্রহীতা বন্ধকী সম্পত্তি বন্ধক-দাতার বরাবরে হস্তান্তর করেন, তাকে পুনঃসমর্পণ দলিল বলে। বন্ধকদাতা কর্তৃক গৃহীত ঋণের সমুদয় অর্থ পরিশোধের পর বন্ধক গ্রহীতা এ ধরনের দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেন।

 

বন্টননামা দলিল কাকে বলে?

যে দলিলের মাধ্যমে কোন সম্পত্তির অংশীদারগণ বা সহমালিকগণ নিজেদের মধ্যে উক্ত সম্পত্তি পৃথকভাবে ভাগ বা বন্টন করে নেয়, তাকে বন্টননামা দলিল বলে।

 

বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্ণি দলিল কি?

কোন একক লেনদেন সংক্রান্ত এক বা একাধিক দলিল রেজিস্ট্রি করার একমাত্র উদ্দেশ্যে অথবা একটি বা একাধিক অনুরুপ দলিলের সম্পাদন স্বীকার করার ক্ষমতা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত দলিলকে বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্ণি দলিল বলে।

 

মুল দলিল ফেরৎ পাওয়ার নিয়ম বিলম্বে জরিমানা

সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলিল গৃহীত হলে দলিলের দাখিলকারীকে একটি রশিদ দেয়া হয়। রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ৫২ ধারার অধীন এ রশিদ দেয়া হয় বিধায় একে “৫২ ধারার রশিদ” বলা হয়। এই রশিদে মুল দলিল ফেরৎ গ্রহনের একটি সম্ভাব্য তারিখ দেয়া থাকে। দাখিলকারী মুল দলিল গ্রহনের জন্য রশিদে অন্য কোন ব্যক্তিকে মনোনিত করতে পারেন। দলিলে প্রয়োজনীয় পৃষ্টাঙ্কন, বালাম বহিতে দলিলের নকলকরন ও সূচি বহিতে সূচীকরন শেষ হলে ফেরৎ প্রদানের জন্য প্রস্তুতকৃত দলিল সমুহের একটি তালিকা অফিসের নোটিশ বোর্ডে দেয়া হয়। এরপর ৫২ ধারার রশিদ জমা দিয়ে দাখিলকারী বা তার মনোনীত ব্যক্তি মুল দলিল গ্রহন করতে পারেন।

 

দলিল ফেরৎ গ্রহনের নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে মুল দলিল ফেরৎ না নিলে পরবর্তী প্রতি মাস বা তার অংশ বিশেষের জন্য ৫ টাকা হারে জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে বিলম্ব যত মাসই হোক না কেন, জরিমানা ১০০ টাকা এর বেশী আদায়ের বিধান নাই।

 

রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর কোন দলিল দাবীবিহীন অবস্থায় ২ (দুই) বছরের বেশি রেজিস্ট্রি অফিসে পরে থাকলে “রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮” এর ৮৫ ধারার বিধান মতে, সেগুলো ধ্বংশ করে ফেলা যায়। সুতরাং সময়মত মুল দলিল সংগ্রহ করে সংরক্ষণ প্রয়োজন।

 

রশিদ হারিয়ে গেলে মূল দলিল ফেরৎ পাওয়ার উপায়

রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল ২০১৪, এর ৬ষ্ট খণ্ডের ১১১ (চ) ও ১১১ (ছ) অনুচ্ছেদে রশিদ হারিয়ে গেলে মূল দলিল ফেরৎ প্রদানের কার্যপদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।

 

১১১ (চ) (১) রসিদ হারানোর অভিযোগ সহকারে দলিল ফেরত প্রদানের অনুরোধ সংবলিত প্রতিটি আবেদন লিখিত এবং মূল রসিদ যাহার নিকট প্রদান করা হইয়াছিল তাহার দ্বারা দাখিলকৃত হইবে। এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দাখিলকারীকে সনাক্তক্রমে রসিদ হারানোর বিষয়টি প্রমাণীত করাইয়া লইবেন। যেক্ষেত্রে দাখিলকারী গ্রহীতা নহেন, সেইক্ষেত্রে প্রাপ্তিস্বীকার পত্র সহ একটি নোটিস গ্রহীতার নিকট প্রেরণ করা হইবে (যাহার খরচ আবেদনকারী বহন করিবেন) এবং রসিদ হারানোর বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য তাহাকে যুক্তিসংগত সময় প্রদান করা হইবে।

 

দলিলটি নিবন্ধিত না হইয়া থাকিলে, সাদা কাগজে রসিদের একটি প্রতিলিপি দেওয়া যাইবে; পক্ষান্তরে যদি দলিলটি নিবন্ধিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে দলিলটি ফেরত দেওয়া যাইবে। হারানো রসিদটির পরিবর্তে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা এক খন্ড সাদা কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় নিম্নের প্রত্যায়ন লিপিবদ্ধ করিয়া মুড়িপত্রে লাগাইয়া রাখিবার ব্যাবস্থা করিবেনঃ-

 

“প্রত্যয়ন করা যাইতেছে যে, মূল রসিদ হারানোর বিষয়টি আমার নিকট প্রমাণিত হইয়াছে বিধায় দাখিলকারীকে যথাযথরূপে সনাক্তক্রমে অপর পৃষ্ঠায় প্রাপকের সাক্ষর অনুযায়ী দলিলটি ফেরত দেওয়া হইল।

 

তারিখ………… নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা।“

 

 

আবেদনকারী দলিল দাখিলকারী না হলে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে:

 

(অ) গ্রহীতা কর্তৃক রসিদ হারানোর অভিযোগ সহকারে দলিল ফেরত প্রদানের অনুরোধ সংবলিত লিখিত আবেদন দাখিল করিতে হইবে।

 

(আ) আবেদনের সহিত স্থানীয় থানায় রসিদ হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি ভুক্তির ফটোকপি, আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা ১(এক) কপি পাসপোর্ট আকারের ফটো, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি সংলগ্নি আকারে প্রদান করিতে হইবেঃ

 

তবে শর্ত থাকে যে, গ্রহীতা সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, তফসিলভুক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিস্থান হইলে সেইক্ষেত্রে উল্লিখিত সংলগ্নির প্রয়োজন হইবেনা।

 

(ই) নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা উক্তরূপ আবেদন প্রাপ্ত হইয়া গ্রহীতার পরিচয় সম্পর্কে স্বয়ং সন্তুষ্ট হইবেন এবং ক্ষেত্রমত, দলিলের সহিত সংযুক্ত ফটো এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদের সহিত যাচাই করিবেন এবং দলিলে সংগৃহীত স্বাক্ষরের সহিত আবেদনে প্রদত্ত স্বাক্ষর মিলাইবেন।

 

(ঈ) রসিদ হারানোর বিষয়ে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার নিকট হাজির হইয়া সাক্ষ্য প্রদানের নিমিত্ত যুক্তিসঙ্গত সময় প্রদান করিয়া আবেদনকারীর ব্যয়ে দলিলের দাখিলকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য গ্রহীতাগণের বরাবর প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে একটি নোটিস প্রেরিত হইবে।

 

(উ) দলিলের দাখিলকারী বা অন্যান্য গ্রহীতা হাজির হইলে বা নির্ধারিত সময়-সীমা উত্তীর্ণ হইলে, নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দফা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতি, যতদুর প্রযোজ্য, অনুসরন করিবেন এবং দলিলটির নিবন্ধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হইয়া থাকিলে রসিদ হারানো সংক্রান্ত নিম্নরূপ প্রত্যায়ন প্রদান করিবেনঃ

 

“প্রত্যায়ন করা যাইতেছে যে, মূল রসিদ হারানোর বিষয়টি আমার নিকট প্রমাণীত হইয়াছে বিধায় দলিলের গ্রহীতাকে যথাযথরূপে সনাক্তক্রমে অপর পৃষ্ঠায় প্রাপকের সাক্ষর অনুযায়ী দলিলটি ফেরত প্রদান করা হইল।

 

তারিখ…………. নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা।”

 

 দলিল গ্রহণে অন্যান্য বিষয়

ফিসের তালিকার দফা ‘চ (১) (অ) বা (আ)’ এর অধীন তল্লাশি ফিস আদায় করিতে হইবে এবং সাদা কাগজে উপর্যুক্ত (১) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত প্রত্যায়ন লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। যেক্ষেত্রে তল্লাশী বা পরিদর্শন ফিস আদায়যোগ্য সেইক্ষেত্রে, নির্ধারিত ফরমে, আবেদনপত্র প্রযোজ্য।

 

১১১ (ছ) রসিদ হারানোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর টিপছাপ প্রদান করিতে হইবেঃ

 

রসিদ হারানোর অভিযোগে দলিল ফেরত প্রদানের আবেদনের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ভিন্ন টিপছাপ রেজিস্টারে আবেদনকারীর টিপছাপ গ্রহন করিতে হইবে। রেজিস্টারের ২ নং কলামের শিরোনামের স্থলে “আবেদনকারীর নাম, স্বাক্ষর ও দলিলে বর্ণিত তাহার সামাজিক ও পেশাগত অবস্থান” হাতে লিখিয়া পরিবর্তন করিতে হইবে।

 

দলিলটি ফেরত দেওয়ার পূর্বে, নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দলিলে বিদ্যমান পূর্বের টিপছাপের সহিত, যদি থাকে, বর্তমানে গৃহীত টিপছাপের তুলনা করিয়া স্বয়ং সন্তুষ্ট হইবেন যে, এইরূপ ক্ষেত্রে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই।

হুদহুদ কম্পিউটার

হুদহুদ কম্পিউটার - মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর। যোগাযোগঃ Email- [email protected], Mobile-01632391209

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *