ইন্টারনেটের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই এবং জমির খতিয়ান/পর্চা বের করার নিয়ম পদ্ধতি

অনলাইনে জমির খতিয়ান যাচাই করার নিয়ম। কিভাবে অনলাইনে জমির খতিয়ান/পর্চা বের করবেন। অনলাইনে খতিয়ান দেখা ও দলিল যাচাই করবেন যেভাবে। নেটের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই এবং খতিয়ান/পর্চা বের করার উপায়।

 

যে কোন জমির মালিক যাতে ঘরে বসে জমির মালিকানা যাচাই করতে বা ঘরে বসে অনলাইন খতিয়ান/পর্চা সঠিক আছে কিনা যাচাই করতে কিংবা জমি কেনার পূর্বে অনলাইনের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে নিতে পারে, সে জন্য ভূমিমন্ত্রনালয় সরকারী ওয়েবসাইটে একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার অধিকাংশ জেলার আরএস খতিয়ান সহ অন্যান্য খতিয়ানগুলো এখন ভূমিমন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই বের করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল গড়ার লক্ষে এ কাজটিতে আরো আধুনিকায়ন আনার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে অতি সহজে জোন্যাল সেটেলমেন্ট অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই, জমির খতিয়ান ও পর্চা বের করা যাবে। ফলে জমি কেনার পর প্রতারনার ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে।

আজকে আমরা দেখব কিভাবে ঘরে বসে কম্পিউটার অথবা হাতে থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন থেকে সহজে জমির মালিকানা যাচাই, জমির খতিয়ান কিংবা পর্চা বের করা যায়?

অবশ্যই পড়ুন..

জমি ক্রয় করার আগে যে বিষয়গুলো জনা আবশ্যক

জমির মালিকানা পরিবর্তন/ জমি খারিজ/ ই নামজারি বা মিউটেশন (Mutation) বিস্তারিত গাইডলাইন

 

বর্তমান কম্পিউটার ও ইন্টারনেট যুগে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখলেও জমি জমার বিষয়ে মিনিমাম অ,আ, ক,খ জ্ঞানটুকো রাখে না। যার ফলে দেখা যায় অনেকের বাবা মারা যাওয়ার পর বাপ-দাদার জমি-জমার সঠিক হিসাব খুঁজে পায় না। অথবা নতুন জমি ক্রয় করতে গিয়ে বিভিন্ন দালাল এর সাহায্যে নেওয়ার সময় প্রতারিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অথচ জমি-জমা সম্পর্কে মিনিমাম জ্ঞান রাখলে বাপ-দাদার ভিটে-মাটির হিসাবসহ অন্যান্য জমির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিজেই করতে পারত।

এই পোস্টের মূল বিষয় হচ্ছে ঘরে বসে সহজে অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করা এবং জমির খতিয়ান/পর্চা অনলাইনে বের করা যায়। সে জন্য জমির অন্যান্য বিষয়ে নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে না। তবে জমির কাগজপত্র সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারনা না থাকলে অনলাইনে থেকে জমির মালিকানা যাচাই বা জমির খতিয়ান/পর্চা বের করতে কিছুটা সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে। তাই অনলাইন হতে জমির মালিকানা যাচাই করার পূর্বে জমির কিছু বেসিক বিষয় এখানে আলোচনা করা হলো। তবে আপনি যদি জমি-জামা সম্পর্কে অভীজ্ঞতা সম্পন্ন হন তাহলে বিস্তারিত না পড়ে সরাসরি পোস্টের নিচে চলে যেতে পারেন।

 

খতিয়ান বা পর্চা কি?

খতিয়ান যা পর্চাও তাই অর্থাৎ খতিয়ান ও পর্চা একই জিনিস। এলাকা ভিত্তিক এটাকে আরো বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। রাষ্টীয়ভাবে জরিপ করা জমি-জমার মৌজা ভিত্তিক এক বা একাদিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত সরকারি দলিলকে খতিয়ান বলে। আইনের ভাষায় খতিয়ান হলো-জরিপকালীন সময়ে জরিপের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ ফরম নং-৫৪৬২ (সংশোধিত) তে ভূমির মালিকানা/দাগের বর্ণনাসহ যে নথিচিত্র প্রকাশিত হয় তাকে খতিয়ান বলে। এতে মৌজার দাগ অনুসারে এক বা একাধিক ভূমি মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, মালিকানার বিবরণ, জমির বিবরণ, মৌজা নম্বর, মৌজার ক্রমিক নম্বর (জেএল নম্বর), সীমানা, জমির শ্রেণি, দখলকারীর নাম, অংশ ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। মূলত জমির প্রকৃত মালিকের নিকট হতে খাজনা আদায় করার জন্য বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান নং প্রস্তুত করে। খতিয়ান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 মাঠ পর্চা কি?

মাঠ পর্যায়ে ভূমি জরিপ করার সময় চূড়ান্ত পর্চা/খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের দেওয়া হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। মাঠ পর্চায় কোন ধরনের ভূল থাকলে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে সহজেই সংশোধন করা যায়। বলা যায় মাঠ পর্চা হলো চূরান্ত পর্চার মডেল টেষ্ট।

খতিয়ান বা পর্চা কত প্রকার?

আমাদের দেশে সাধারণত চার ধরনের খতিয়ান রয়েছে। যথা-

১.সিএস খতিয়ান। (Cadastral Survey)
২.এসএ খতিয়ান । (State Acquisition Survey)
৩.আরএস খতিয়ান। (Revisional Survey)
৪.বিএস খতিয়ান/সিটি জরিপ। (City Survey)

১। সিএস খতিয়ান কি? (Cadastral-Survey)

সিএস জরিপ উপমহাদেশের সর্বপ্রথম জরিপ এটা যা ১৮৮৭ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এটা পরিচালিত হয়। এই জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় সমাপ্ত হয়। এই সময়ে সিলেট আসাম প্রদেশের অর্ন্তভুক্ত এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম এর জমিদারী প্রথার সাথে পাহাড়ী ও বাঙ্গালী বিরোধ থাকায় সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল দুটিকে সিএস জরিপের আওতায় নেওয়া হয় নাই। পরে ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাসত্ব আইনের (The State Acquisition and Tenancy Act, 1950) আওতায় একটি জরিপ কার্য সম্পন্ন হয়। ১৯৫০ এর The State Acquisition and Tenancy Act এর সময় পার্বত্য চট্রগাম আইনের আওতায় ছিল না তাই চট্টগাম অঞ্চলে সিএস জরিপ হয়নি।

সিএস খতিয়ান পরিচিতি বা সিএস খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

এই খতিয়ান উপর থেকে নিচ পর্যন্ত লম্বালম্বিভাবে হয় এবং দুই পৃষ্ঠা সম্বলিত হয়। প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুটি ভাগ করা থাকে। একদম উপরে লেখা থাকে বাংলাদেশ ফরম নং-৫৪৬৩। পরের পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকে।

২। এসএ খতিয়ান কি? (State Acquisition Survey)

১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ সাব্যস্ত করেন। উক্ত সময়ে সরকারি আমিনগণ সরেজমিনে অর্থাৎ মাঠে
না গিয়ে অফিসে বসে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে এসএ খতিয়ান তৈরী করেন। কোন কোন অঞ্চলে এ খতিয়ানকে টেবিল খতিয়ান বা ৬২ এর খতিয়ান নামে অভিহিত করা হয় বা পরিচিতি লাভ করে।

এসএ খতিয়ান চেনার সহজ উপায়ঃ

এসএ খতিয়ান আড়াআড়ি ভাবে থাকে। এইটা সবসময় হাতের
লিখা হয়, কখনো প্রিন্ট হয় না।এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের এবং হাল খতিয়ান নম্বর থাকে।এই খতিয়ান এক পৃষ্ঠার হয়।

৩। আরএস খতিয়ান কি? (Revisional Survey)

সিএস জরিপ সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ ৫০ বছর পর আরএস জরিপ পরিচালিত হয়। আগের জরিপের ভূল সংশোধনসহ জমি, মলিক ও দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বের ভূল সংশোধনক্রমে আরএস জরিপ এতইটাই শুদ্ধ করে তৈরি করা হয় যে, এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আরএস খতিয়ানের উপর নির্ভর করতে হয়।

আরএস খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

ফরম এর একদম উপরে হাতের ডান পাশে “রেসার্তে নং” লেখা থাকে এবং খতিয়ানটি এক পৃষ্ঠার হয়।এটাও সিএস এর মত উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

৪। বিএস খতিয়ান কি? (City Survey)

বাংলাদেশে সর্বশেষ এই জরিপ ১৯৯৮-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। যেটির কাজ বর্তমান চলমান রয়েছে। ঢাকা অঞ্চলে ইহা মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।

বিএস খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম এবং জমির ধরণ অর্থাৎ কি ধরনের জমি সেটা লিখা থাকে (যেমনঃ চাষের জমি, পুকুর ইত্যাদি)।

খতিয়ানে কি উল্লেখ করা থাকে?

খতিয়ানে বেশ কিছু বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। খতিয়ানে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় অর্জন বিধিমালার ১৮ নম্বর ধারায় বিবৃত রয়েছে। সেগুলো হল—

  • প্রজা বা দখলদারের নাম, ঠিকানা ও পিতার নাম এবং প্রজা বা দখলদার ব্যক্তি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
  • প্রজা বা দখলদার কর্তৃক জমির অবস্থান, শ্রেণী, পরিমাণ ও সীমানা।
  • প্রজার জমির মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
  • এস্টেটের মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
  • খতিয়ান প্রস্তুতের সময় খাজনার পরিমাণ এবং ২৮,২৯,৩০ বিধি মোতাবেক নির্ধারিত খাজনা। গোচারণ ভূমি, বনভূমি ও মৎস্য খামারের জন্য ধারণকৃত অর্থ।
  • খাজনা যে পদ্ধতিতে ধার্য্য করা হয়েছে তার বিবরণ।
  • ২৬নং ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা।
  • যদি খাজনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে যে যে সময়ে ও যে যে পদক্ষেপে বৃদ্ধি পেয়েছে তার বিবরণ।
  • কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে প্রজা কর্তৃক পানির ব্যবহার এবং পানি সরবরাহের জন্য যন্ত্রপাতি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত প্রজা ও জমির মালিকের মধ্যে অধিকার ও কর্তব্যের বিবরণ।
  • প্রজাস্বত্ব সম্পর্কিত বিশেষ শর্ত ও তার পরিণতি।
  • পথ চলার অধিকার ও জমির সংলগ্ন অন্যান্য অধিকার।
  • নিজস্ব জিম হলে তার বিবরণ।
  • এছাড়াও খতিয়ানে নিজস্ব খতিয়ান নম্বর, জমির দাগ নম্বর, বাট্টা নম্বর, এরিয়া নম্বর, মৌজা নম্বর এবং জে, এল, নম্বর ইত্যাদি উল্লেখিত থাকে।

খতিয়ান নম্বর কি?

প্রতিটি খতিয়ানকে আলাদা আলাদাভাবে সনাক্ত করার জন্য খতিয়ানের জন্য ইউনিক নাম্বার বরাদ্দ করা হয়। ফলে খতিয়ান নম্বর দিয়ে সহজে খতিয়ান সনাক্ত করা যায়। সাধারণভাবে একটি মৌজার ভীতরে একজন মালিকের যতগুলো দাগের জমি থাকে সবগুলো একত্রিত করে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূলত সহজে জমির মালিক সনাক্ত করার জন্য খতিয়ান নম্বর ব্যবহৃত হয়।

 

মৃত্যুর ব্যাক্তির সম্পতি ভাগ করার অনলাইন ক্যালকুলেটর 

 

মৌজা কি?

ভুমি জরিপ করার সময় এক একটি উপজেলা/এলাকাকে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগকৃত এক একটি ক্ষুদ্র ভাগকে একটি মৌজা বলে। কখনো কখনো একটি গ্রাম একটি মৌজায় অন্তর্ভুক্ত, আবার কখনো একটি মৌজায় একাধিক গ্রাম থাকতে পারে। মৌজা হলো ভূমি জরিপের একক অংশ। মৌজায় কি পরিমাণ ভূমি অন্তর্ভুক্ত থাকবে তার কোন সুনির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ম না থাকলেও কমপক্ষে ২০০ একরের ঊর্ধ্বে ভূমি নিয়ে একটি মৌজা গঠিত হয়।

জেএল নাম্বার কি?

প্রতিটি মৌজাকে একটি স্থানীয় নামে এবং একটি ক্রমিক সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। ক্রমিক সংখ্যাটিকে জেএল নাম্বার (জুরিসডিকশন লিস্ট নাম্বার) বলে। কোন উপজেলার যদি মোট ১০০ টি মৌজা থাকে তাহলে উক্ত মৌজাসমূহের জেএল নাম্বার হবে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত।

জমির দাগ নাম্বার কি?

যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার জন্য প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদা যে নাম্বার দেয়া হয় তাকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। এই দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানার খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রকাশ করা হয়।

ছুটা দাগ কাকে বলে?

ভূমি জরিপ করার সময় প্রাথমিক নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তবে তাকে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুনঃ সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।

খাজনা ককে বলে?

সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের বদলে যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।

দাখিলা কাকে বলে?

ভূমি কর/খাজনা আদায়কালে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।

DCR কাকে বলে?

ভূমি কর ব্যাতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার জন্য যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।

কবুলিয়ত কাকে বলে?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব এবং প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

কিভাবে জমির মালিকানা যাচাই এবং পর্চা বের করবেন?

 

উপরের আলোচনা থেকে নিশ্চয় জমির অনেক বিষয় সম্পর্কে বেসিক ধারণা পেয়ে গেছেন। উক্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারলে জমির খতিয়ান বুঝতে আপনকে এর জন্য কোন ডিগ্রী নিতে হবে না। এখন আমরা অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই ও জমির খতিয়ান/পর্চা বের করার নিয়ম পদ্ধতি দেখব।

অনলাইনের মাধ্যমে জমির পর্চা দেখা বা হাতে পাওয়র জন্য যা করতে হবে

আপনি সাধারণত তিনভাবে জমির খতিয়ান পেতে পারেন। যথা-

১) ওয়েব সাইটের মাধ্যমে নিজে আবেদন করে

২) ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র বা জেলা ই সেবা কেন্দ্র থেকে আবেদন করার মাধ্যমে কিংবা

৩) ডিজিটাল রেকর্ডরুম থেকে বাসায় বসে আপনার জমির সার্টিফাইড খতিয়ান কপি পেতে পারেন।

 

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমির পর্চার আবেদন কিংবা চেক করুন

জমির যেকোন খতিয়ান যেমন- (সিএস, এসএ, আরএস) ওয়েব সাইটের মাধ্যমে পেতে হলে ভিজিট করতে হবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট https://land.gov.bd/  অথবা সরাসরি http://drr.land.gov.bd/ এই ঠিকানায় প্রবেশ করে খতিয়ান পর্চার আবেদন কিংবা খতিয়ান পর্চা অনুসন্ধান বাটন ক্লিক করে অনলাইনে  খতিয়ান দেখতে পারবেন।

 

আর এস খতিয়ান অনলাইনে দেখা বা উঠানোর পদ্ধতি

 

প্রথমে এই লিংকে ক্লিক করে ভূমিমন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে নিচের চিত্রটি শো করবে।

 

উপরের চিত্রে মোট চারটি ঘর দেখা যাচ্ছে। খতিয়ান দেখাতে হলে এই চারটি ঘর পুরণ করতে হবে। নিচের চিত্রে দেখুন-

ইন্টারনেটের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই এবং জমির খতিয়ান/পর্চা বের করার নিয়ম পদ্ধতি

এখানে উপরের চিত্রের ন্যায় বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম/নাম্বার সিলেক্ট করতে হবে।তারপর খতিয়ান নং জানা থাকলে “খতিয়ান নং অনুযায়ি” অপশনটি বেচে নিয়ে খালি ঘরে উপরের চিত্রেরন্যায় জমির খতিয়ান নম্বরটি লিখে দিতে হবে।সবশেষে যোগফল এর ঘরে যোগফলটি লিখে দিয়ে সবুজ কালারের খুজুন বাটনে ক্লিক করলে কাঙ্খিত জমির মালিক, দাগ নম্বর ও ভূমির মাপসহ যাবতীয় তথ্য নিচের চিত্রেরন্যায় দেখা যাবে।

যদি আপনি খতিয়ান এর সার্টিফাইট কপি অথবা অনলাইন কপি নিতে চান তাহলে উপরের চিত্রের সবুজ রংয়ের অপশনগুলো ব্যবহার করতে হবে। সার্টিফাইট/অনলাইন কপির অপশনে ক্লিক করলে একটি ফরম ওপেন হবে। এখানে নাম ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। মনে রাখতে হবে সার্টিফাইড/অনলাইন কপির জন্য ইউ ক্যাশ দিয়ে পেমেন্ট করতে হবে। নিজের ইউ ক্যাশ না থাকলে অন্য কারো ইউ ক্যাশ দিয়েও টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

বিঃ দ্রঃ উপরে শুধু খতিয়ান নং দিয়ে পর্চা বের করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। যদি খতিয়ান নং জানা না থাকে তাহলে দাগ নং সিলেক্ট করে পর্চা বের করতে পারবেন। খতিয়ান কিংবা দাগ নং কোনটিই যদি জানা না থাকে তাহলে জমির মালিকের নাম কিংবা জমির মালিকের পিতার নাম দিয়ে পর্চা বের করতে পারবেন। বলে রাখা ভাল যে, জমির মালিকের নাম বা মালিকের পিতার নাম বাংলায় লিখে সার্চ করবেন।

আরো পড়ুন…

জমি মাপযোকের পদ্ধতি বা ভূমি পরিমাপ করার নিয়মগুলো জেনে নিন

ভূমি ও দলিলে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও তার অর্থ বিস্তারিত

 

জমি-জমা বা ভূমি সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

-জনস্বার্থে হুদহুদ কম্পিউটার

হুদহুদ কম্পিউটার

হুদহুদ কম্পিউটার - মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর। যোগাযোগঃ Email- [email protected], Mobile-01632391209